ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ৪২ শতাংশ পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় রানু আক্তারের পরিবার বাংলাদেশ পুলিশের কর্ণধার ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিপিএম মহোদয়ের নারায়ণগঞ্জ জেলার একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত প্রবাসীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিত করে তফসিল ঘোষণার দাবিতে সিইসিকে স্মারকলিপি দিয়েছে লেবার পার্টি ২০৩৪ সালের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে হবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ *ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক ৪৬ কেজি গাঁজাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।* *জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপির ভাই সানজিদ হাসনাত গ্রেফতার *পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় রাজউকের অনুমোদনবিহীন বিলবোর্ড উচ্ছেদে যৌথ অভিযান* ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক ১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।* রাড্ডা-কাণ্ডের সকল দায় প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে: আল্লামা মামুনুল হক অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে একাধিক জুয়া সাইটের ০১ এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযানে গ্রেফতার ০৫, বিপুলসংখ্যক সিম ও v

রিপোর্টার সেলিম বেপারী
  • আপডেট সময় : ০৪:০২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়া ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের ০৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস এর একটি বিশেষ দল নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে। গত ১১/০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখ সন্ধ্যা হতে ১২/০৮/২০২৬ খ্রি. পর্যন্ত নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হল-

০১. রফিকুল ইসলাম (৪৬), পিতা- মৃত আনোয়ার হোসেন, মাতা- মৃত ঝর্না বেগম, সাং- শ্রীরামপুর (উত্তর পাড়া), রায়পুরা পৌরসভা, থানা- রায়পুরা;
০২. মো. সোহেল (৩৭), পিতা- আকতারুজ্জামান, মাতা-রোকেয়া বেগম, সাং-নোয়াদীয়া (মৌলভী বাড়ী), পোস্ট-নোয়াদীয়া, থানা- মনোহরদী;
০৩. মো. শফিকুল ইসলাম (২৭), পিতা- মৃত বজলুর রহমান, মাতা- লতিফা বেগম, সাং- রসুলপুর (বজলুর রহমানের বাড়ী), পোস্ট- হাতিরদীয়া, থানা- মনোহরদী;
০৪. মো. রুবেল মোল্ল্যা (৩৩), পিতা- মজিবুর রহমান, মাতা- হাসনেয়ারা বেগম, সাং- উত্তর নোয়াদীয়া (মজিবরের বাড়ী), পোস্ট-নোয়াদীয়া, থানা-মনোহরদী;
০৫. আইয়ুব হোসেন রিপন (৪৮), পিং-মৃত আবুল হোসেন, ঠিকানা-৬৯/২, নয়াদরাকান্দিয়া, নরসিংদী সদর;

সর্ব জেলা-নরসিংদী।

নরসিংদীর রায়পুরা থানার রেলগেইট কলেজ মার্কেট এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম (৪৬), মনোহরদী থানার নোয়াদীয়া গ্রামের মৌলভী বাড়ী এলাকা থেকে আসামী মো. সোহেল (৩৭), মনোহরদী থানার সামনে রাজু টাওয়ার এলাকা থেকেমো: শফিকুল ইসলাম (২৭) ও মো. রুবেল মোল্ল্যা (৩৩) এবং মনোহরদী থানাধীন নয়াদরাকান্দিয়া এলাকা থেকে আইয়ুব হোসেন রিপন (৪৮) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধকর্মে ব্যবহৃত ০৯টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড এবং বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাইবার মনিটরিং করাকালীন সিপিসি জানতে পারে যে সাম্প্রতিক অনলাইন মনিটরিং ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে।বিভিন্ন নামী-বেনামী অনলাইন বেটিং ও জুয়ার এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল ও অন্যান্য খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার আয়োজন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব অনলাইন জুয়ার প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট এসব বেটিং ওয়েবসাইটে নিবন্ধন ও লগইন করে আরও জানা যায় যে, এসব সাইটে অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রথমে টপ-আপ বা ডিপোজিট করতে হয়। এ অর্থ জমা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। অর্থ জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বট মানি যুক্ত হয়, যা পরবর্তীতে অনলাইন বেটিং বা জুয়ায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এসব বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের জন্য এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করা হয় এবং সময়ের সঙ্গে এসব নম্বর পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সংগৃহীত নম্বর ও হিসাবের তথ্য বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে সরবরাহ করা হয়। এসব হিসাব ও নম্বর ব্যবহার করে দেশের নানা স্থান থেকে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন করা হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ সংশ্লিষ্ট এজেন্টরা একত্রিত করে কমিশন রেখে অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরের পর দেশের বাইরে পাচার করে থাকে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানায় মামলা নং- ২৪, তারিখ- ১৯/০৫/২০২৬ খ্রি., ধারা- সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ এর ২০(২)/২১(২)/২৪(২)/২৭(২) রুজু করে।

প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে, অনলাইন বেটিং চক্রটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এজেন্ট ও এমএফএস/ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে মর্মে সত্যতা পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন বেটিং ও জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, ব্যাংক হিসাব ও চেকবইসহ জব্দকৃত আলামতের ফরেনসিক ও কারিগরি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনলাইন বেটিং কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা, আর্থিক লেনদেনের ধরন, চক্রের অন্যান্য সদস্য এবং অর্থের সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিট। এ চক্রের সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং অবৈধভাবে লেনদেনকৃত অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার তদন্তে অনলাইন বেটিং সাইটগুলোর পরিচালনাকারী, এজেন্ট, অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত এমএফএস ও ব্যাংক হিসাবের মালিক এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উক্ত কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের PSD Circular No-07, তারিখ- ২৮/০৫/২০২৫ খ্রি. অনুযায়ী অনলাইন জুয়া কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হলেও সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়।

সিআইডি দেশের জনগণকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। একইসঙ্গে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করার এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযানে গ্রেফতার ০৫, বিপুলসংখ্যক সিম ও v

আপডেট সময় : ০৪:০২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়া ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের ০৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস এর একটি বিশেষ দল নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে। গত ১১/০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখ সন্ধ্যা হতে ১২/০৮/২০২৬ খ্রি. পর্যন্ত নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হল-

০১. রফিকুল ইসলাম (৪৬), পিতা- মৃত আনোয়ার হোসেন, মাতা- মৃত ঝর্না বেগম, সাং- শ্রীরামপুর (উত্তর পাড়া), রায়পুরা পৌরসভা, থানা- রায়পুরা;
০২. মো. সোহেল (৩৭), পিতা- আকতারুজ্জামান, মাতা-রোকেয়া বেগম, সাং-নোয়াদীয়া (মৌলভী বাড়ী), পোস্ট-নোয়াদীয়া, থানা- মনোহরদী;
০৩. মো. শফিকুল ইসলাম (২৭), পিতা- মৃত বজলুর রহমান, মাতা- লতিফা বেগম, সাং- রসুলপুর (বজলুর রহমানের বাড়ী), পোস্ট- হাতিরদীয়া, থানা- মনোহরদী;
০৪. মো. রুবেল মোল্ল্যা (৩৩), পিতা- মজিবুর রহমান, মাতা- হাসনেয়ারা বেগম, সাং- উত্তর নোয়াদীয়া (মজিবরের বাড়ী), পোস্ট-নোয়াদীয়া, থানা-মনোহরদী;
০৫. আইয়ুব হোসেন রিপন (৪৮), পিং-মৃত আবুল হোসেন, ঠিকানা-৬৯/২, নয়াদরাকান্দিয়া, নরসিংদী সদর;

সর্ব জেলা-নরসিংদী।

নরসিংদীর রায়পুরা থানার রেলগেইট কলেজ মার্কেট এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম (৪৬), মনোহরদী থানার নোয়াদীয়া গ্রামের মৌলভী বাড়ী এলাকা থেকে আসামী মো. সোহেল (৩৭), মনোহরদী থানার সামনে রাজু টাওয়ার এলাকা থেকেমো: শফিকুল ইসলাম (২৭) ও মো. রুবেল মোল্ল্যা (৩৩) এবং মনোহরদী থানাধীন নয়াদরাকান্দিয়া এলাকা থেকে আইয়ুব হোসেন রিপন (৪৮) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধকর্মে ব্যবহৃত ০৯টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড এবং বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাইবার মনিটরিং করাকালীন সিপিসি জানতে পারে যে সাম্প্রতিক অনলাইন মনিটরিং ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে।বিভিন্ন নামী-বেনামী অনলাইন বেটিং ও জুয়ার এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল ও অন্যান্য খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার আয়োজন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব অনলাইন জুয়ার প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট এসব বেটিং ওয়েবসাইটে নিবন্ধন ও লগইন করে আরও জানা যায় যে, এসব সাইটে অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রথমে টপ-আপ বা ডিপোজিট করতে হয়। এ অর্থ জমা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। অর্থ জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বট মানি যুক্ত হয়, যা পরবর্তীতে অনলাইন বেটিং বা জুয়ায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এসব বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের জন্য এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করা হয় এবং সময়ের সঙ্গে এসব নম্বর পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সংগৃহীত নম্বর ও হিসাবের তথ্য বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে সরবরাহ করা হয়। এসব হিসাব ও নম্বর ব্যবহার করে দেশের নানা স্থান থেকে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন করা হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ সংশ্লিষ্ট এজেন্টরা একত্রিত করে কমিশন রেখে অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরের পর দেশের বাইরে পাচার করে থাকে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানায় মামলা নং- ২৪, তারিখ- ১৯/০৫/২০২৬ খ্রি., ধারা- সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ এর ২০(২)/২১(২)/২৪(২)/২৭(২) রুজু করে।

প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে, অনলাইন বেটিং চক্রটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এজেন্ট ও এমএফএস/ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে মর্মে সত্যতা পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন বেটিং ও জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, ব্যাংক হিসাব ও চেকবইসহ জব্দকৃত আলামতের ফরেনসিক ও কারিগরি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনলাইন বেটিং কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা, আর্থিক লেনদেনের ধরন, চক্রের অন্যান্য সদস্য এবং অর্থের সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিট। এ চক্রের সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং অবৈধভাবে লেনদেনকৃত অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার তদন্তে অনলাইন বেটিং সাইটগুলোর পরিচালনাকারী, এজেন্ট, অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত এমএফএস ও ব্যাংক হিসাবের মালিক এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উক্ত কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের PSD Circular No-07, তারিখ- ২৮/০৫/২০২৫ খ্রি. অনুযায়ী অনলাইন জুয়া কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হলেও সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়।

সিআইডি দেশের জনগণকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। একইসঙ্গে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করার এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।