ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসলামের কর্মীদেরকে আত্মশুদ্ধি ও ইখলাসের সোনারগাঁও থানা পুলিশ কর্তৃক ৪,৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০২ জন নারী মাদক ব্যবসায়ী ও ০১ জন পুরুষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ৪২ শতাংশ পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় রানু আক্তারের পরিবার বাংলাদেশ পুলিশের কর্ণধার ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিপিএম মহোদয়ের নারায়ণগঞ্জ জেলার একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত প্রবাসীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিত করে তফসিল ঘোষণার দাবিতে সিইসিকে স্মারকলিপি দিয়েছে লেবার পার্টি ২০৩৪ সালের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে হবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ *ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক ৪৬ কেজি গাঁজাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।* *জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপির ভাই সানজিদ হাসনাত গ্রেফতার *পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় রাজউকের অনুমোদনবিহীন বিলবোর্ড উচ্ছেদে যৌথ অভিযান* ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক ১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।*

শিরোনাম: কক্সবাজারে অতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে ৯ জনের মৃত্যু: মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

​নিজস্ব প্রতিবেদক | কক্সবাজার
​কক্সবাজারে টানা অতি ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং শহর মিলিয়ে অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আটজন এবং কক্সবাজার শহরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। টানা বর্ষণে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বসতিগুলোতে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
​বৃষ্টিপাত ও পূর্বাভাস
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৬৭ মিলিমিটার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোঃ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, “অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।”
​পাহাড়ধসে প্রাণহানি ও উদ্ধার কার্যক্রম
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ের মাটি কেটে গর্ত করে তৈরি করা ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলোতে বসবাসরতদের ওপর রাতের অন্ধকারে পাহাড় ধসে পড়লে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্প, কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্প এবং ১৫ নম্বর ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে রাত পৌনে দুইটার দিকে ধসের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।
​অন্যদিকে, কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়লে চাপা পড়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
​প্রশাসনের বক্তব্য
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে আগে থেকেই সতর্কতা ও নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “অনেকে সতর্কবার্তা মেনে সরিয়ে নেওয়া হলেও, যারা পাহাড়ের গর্ত খুঁড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল, তারাই মূলত এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।”
​ঝুঁকিতে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ
বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। এর মধ্যে পাহাড়ের ঢালু ও পাদদেশে অবস্থিত বসতিগুলো প্রতি বর্ষা মৌসুমেই চরম ঝুঁকির মুখে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড় কাটার ফলে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখন নিয়মিত প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আখতার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য আরও ধস এড়াতে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিরোনাম: কক্সবাজারে অতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে ৯ জনের মৃত্যু: মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প

আপডেট সময় : ১২:৪০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিবেদক | কক্সবাজার
​কক্সবাজারে টানা অতি ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং শহর মিলিয়ে অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আটজন এবং কক্সবাজার শহরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। টানা বর্ষণে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বসতিগুলোতে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
​বৃষ্টিপাত ও পূর্বাভাস
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৬৭ মিলিমিটার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোঃ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, “অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।”
​পাহাড়ধসে প্রাণহানি ও উদ্ধার কার্যক্রম
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ের মাটি কেটে গর্ত করে তৈরি করা ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলোতে বসবাসরতদের ওপর রাতের অন্ধকারে পাহাড় ধসে পড়লে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্প, কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্প এবং ১৫ নম্বর ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে রাত পৌনে দুইটার দিকে ধসের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।
​অন্যদিকে, কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়লে চাপা পড়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
​প্রশাসনের বক্তব্য
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে আগে থেকেই সতর্কতা ও নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “অনেকে সতর্কবার্তা মেনে সরিয়ে নেওয়া হলেও, যারা পাহাড়ের গর্ত খুঁড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল, তারাই মূলত এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।”
​ঝুঁকিতে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ
বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। এর মধ্যে পাহাড়ের ঢালু ও পাদদেশে অবস্থিত বসতিগুলো প্রতি বর্ষা মৌসুমেই চরম ঝুঁকির মুখে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড় কাটার ফলে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখন নিয়মিত প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আখতার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য আরও ধস এড়াতে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।