ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবশেষে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পেলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীরা কানাডায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎঃ চক্রের এক নারী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি কালিয়াকৈরে দীর্ঘ গ্যাস সংকট থাকার কারণে গ্যাসের চাপ বাড়ায় পোশাক শিল্পের উৎপাদন গতি বেড়েছে *”পিপিএম-সেবা” পদকে ভূষিত হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান মহোদয় ‘বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা চলছে’ —আল্লামা মামুনুল হক *দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে শ্যামপুর থানা পুলিশের অভিযান: ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধার, গ্রেফতার এক* অধৈর্যশীলদের এয়ারপোর্ট থেকে প্রত্যাহার করুন সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি’র মতবিনিময় সোনারগাঁও থানা পুলিশ কর্তৃক ৩৫ বোতল স্কার্ফসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার *যাত্রাবাড়ী থানাধীন দক্ষিণ দনিয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ ককটেল উদ্ধার

অধৈর্যশীলদের এয়ারপোর্ট থেকে প্রত্যাহার করুন

রিপোর্টার সেলিম বেপারী
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিমানবন্দরে প্রবাসী যাত্রীদের প্রতি আহ্বান: আইন হাতে নেবেন না, আইন মেনে চলুন. আমরা ১ হাজার ট্রলির ব্যবস্থা করতেছি, দ্রুত ইমিগ্রেশন এর ব্যবস্থা করব ইনশাল্লাহ – অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা, প্রতিষ্ঠাতা এবং কেন্দ্রীয় আহবায়ক. আন্তর্জাতিক রেমিটেন্সি যুদ্ধ সংসদ এবং প্রধান সমন্বয়ক বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন .

প্রবাসীদের সমস্যা বুঝি এবং সমাধানের জন্য কাজ করছি, কিন্তু উত্তেজনা নয়, আইনসম্মত পথই অনুসরণ করতে হবে” —
লন্ডন/ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রী, ট্রলি
যাত্রীর স্বজন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার প্রেক্ষাপটে সকল প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে শান্ত, সংযত এবং আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন International Remittance Juddah Shonshod-এর প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা।
২১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় একজন যাত্রীর স্বজন ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একটি নির্ধারিত এক্সিট গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ক্যানোপি-২ এলাকার একটি নিষিদ্ধ স্থানে অবস্থানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে আরেকটি বিরোধের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। কর্তৃপক্ষ তখনও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল।
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন,
“আমি সকল প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে অনুরোধ করছি, কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে নেবেন না। বিমানবন্দর একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তা এলাকা। সেখানে যে নিয়ম আছে, তা মেনে চলুন। অন্যায় মনে হলে অভিযোগ করুন, প্রতিবাদ করুন, আইনি প্রতিকার চান, কিন্তু হাতাহাতি বা বিশৃঙ্খলার পথে যাবেন না।”
তিনি বলেন, প্রবাসীদের বাস্তব কষ্ট অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন, লাগেজ সংগ্রহ, ট্রলি সংকট, কাস্টমস এবং বিমানবন্দরের বিভিন্ন সেবা নিয়ে বহু অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানের জন্য সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছে।
“সমস্যা আছে বলেই আইন ভাঙার অধিকার তৈরি হয় না” অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, “আপনি হয়তো ক্লান্ত, দীর্ঘ যাত্রা শেষে দেশে এসেছেন, লাগেজ নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বা কোনো সিদ্ধান্তকে অন্যায় মনে করছেন। আপনার ক্ষোভের কারণ থাকতে পারে। কিন্তু সমস্যার সমাধান আরেকটি সমস্যা সৃষ্টি করে করা যায় না।”
তিনি বলেন, বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রিত বা সীমাবদ্ধ থাকে। কোনো নিরাপত্তাকর্মীর সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, কাস্টমস বা সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত।
“অধিকার দাবি করা এবং আইন ভাঙা এক জিনিস নয়। প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে আমরা সোচ্চার থাকব, কিন্তু সেই দাবি অবশ্যই শৃঙ্খলা ও আইনের মধ্যে থেকেই করতে হবে।”
কাস্টমস বিধি সম্পর্কে আগে জানুন
সম্প্রতি বিমানবন্দরে বিদেশি সিগারেট, ভ্যাপ, অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ এবং যাত্রী আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ১০ সেপ্টেম্বর সাত যাত্রীর কাছ থেকে ৩৮.৫ লিটার বিদেশি মদ জব্দের তথ্য জানায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। একই মাসে বিদেশি সিগারেট, ভ্যাপ এবং মোবাইল ডিসপ্লে জব্দের ঘটনাও প্রকাশিত হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,
“বিদেশে কোনো জিনিস বৈধ বা সস্তা হলেই সেটি সীমাহীনভাবে বাংলাদেশে আনা যাবে, এমন নয়। বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বাংলাদেশের কাস্টমস আইন ও ব্যাগেজ বিধিই প্রযোজ্য হবে।”
তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন,
“কোন পণ্য কতটুকু আনা যাবে, কোথায় শুল্ক দিতে হবে এবং কী ঘোষণা দিতে হবে, তা ভ্রমণের আগেই জেনে নিন। কয়েকটি জিনিস বা কয়েক হাজার টাকার জন্য নিজের সম্মান, সময়, মামলা কিংবা ভ্রমণের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।”
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,
কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আমি এর মাধ্যমে অন্যায় মেনে নিতে বলছি না। আমি বলছি, যে পরিবেশে আছেন সেখানে আইন ও নিয়ম বুঝে বুদ্ধিমানের মতো নিজের অধিকার রক্ষা করুন।”
কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা নিরাপত্তাকর্মী অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধেও আইনসম্মত অভিযোগ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
“আইন শুধু যাত্রীর জন্য নয়, কর্মকর্তার জন্যও। প্রবাসীকে যেমন নিয়ম মানতে হবে, তেমনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকেও সম্মানজনক ও আইনসম্মত আচরণ করতে হবে।”
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ট্রলি সংকটকে চিহ্নিত করে তার নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ১,০০০টি লাগেজ ট্রলি প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,
“আমরা যুক্তরাজ্য, ইউরোপ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের পক্ষ থেকে এই সমস্যার বাস্তব সমাধানে অংশ নিতে চাই। শুধু অভিযোগ নয়, যেখানে সম্ভব সেখানে সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাই।”
তার ভাষায়, বিমানবন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত ট্রলি, পরিষ্কার নির্দেশনা, সুশৃঙ্খল ইমিগ্রেশন ও লাগেজ সেবা থাকলে যাত্রী এবং নিরাপত্তাকর্মী উভয়ের ওপর চাপ কমবে।
উভয় পক্ষের সংযম প্রয়োজন
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো ঘটনার ভিডিওর একটি অংশ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো ঘটনার দায় নির্ধারণ করা সবসময় নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক হাতাহাতির ঘটনায়ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলেছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট দেখা যায়নি এবং তারা সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে।

তাই সংগঠনটি আহ্বান জানায়, যাত্রী বা নিরাপত্তাকর্মী কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সিসিটিভি, সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,
“যাত্রীকে অপমান করা যাবে না, নিরাপত্তাকর্মীকেও আক্রমণ করা যাবে না। দুই পক্ষেরই দায়িত্ব আছে। সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া সহজ হয়।”
প্রবাসীদের জন্য পাঁচটি অনুরোধ
অ্যাডভোকেট ঈসা প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানান:
বিমানবন্দরের নির্দেশনা ও Restricted Area-এর নিয়ম মেনে চলুন।
কাস্টমস ও ব্যাগেজ বিধি আগে থেকে জেনে নিন।
উত্তেজিত পরিস্থিতিতে হাতাহাতি বা ধাক্কাধাক্কিতে জড়াবেন না।
অন্যায় হলে নাম, সময়, স্থান ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করুন।
প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকুন, কিন্তু আইন ও শৃঙ্খলার বাইরে যাবেন না।
সবশেষে তিনি বলেন,
“রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অর্থের মূল্য যেমন আছে, তাদের সম্মান ও নিরাপত্তারও মূল্য আছে। আমরা সেই সম্মানের জন্য কাজ করব। একই সঙ্গে আমি প্রত্যেক প্রবাসীকে বলব, দেশের আইন মেনে চলুন এবং নিজের আচরণের মাধ্যমে প্রবাসী সমাজের মর্যাদা আরও উঁচু করুন।”
“অন্যায় হলে প্রতিবাদ করুন, কিন্তু আইন হাতে নেবেন না। সমস্যা হলে অভিযোগ করুন, কিন্তু সংঘাতে যাবেন না। আমরা প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ করছি এবং কাজ করে যাব।”
নিবেদনে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অধৈর্যশীলদের এয়ারপোর্ট থেকে প্রত্যাহার করুন

আপডেট সময় : ০২:০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমানবন্দরে প্রবাসী যাত্রীদের প্রতি আহ্বান: আইন হাতে নেবেন না, আইন মেনে চলুন. আমরা ১ হাজার ট্রলির ব্যবস্থা করতেছি, দ্রুত ইমিগ্রেশন এর ব্যবস্থা করব ইনশাল্লাহ – অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা, প্রতিষ্ঠাতা এবং কেন্দ্রীয় আহবায়ক. আন্তর্জাতিক রেমিটেন্সি যুদ্ধ সংসদ এবং প্রধান সমন্বয়ক বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন .

প্রবাসীদের সমস্যা বুঝি এবং সমাধানের জন্য কাজ করছি, কিন্তু উত্তেজনা নয়, আইনসম্মত পথই অনুসরণ করতে হবে” —
লন্ডন/ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রী, ট্রলি
যাত্রীর স্বজন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার প্রেক্ষাপটে সকল প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে শান্ত, সংযত এবং আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন International Remittance Juddah Shonshod-এর প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা।
২১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় একজন যাত্রীর স্বজন ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একটি নির্ধারিত এক্সিট গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ক্যানোপি-২ এলাকার একটি নিষিদ্ধ স্থানে অবস্থানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে আরেকটি বিরোধের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। কর্তৃপক্ষ তখনও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল।
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন,
“আমি সকল প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে অনুরোধ করছি, কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে নেবেন না। বিমানবন্দর একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তা এলাকা। সেখানে যে নিয়ম আছে, তা মেনে চলুন। অন্যায় মনে হলে অভিযোগ করুন, প্রতিবাদ করুন, আইনি প্রতিকার চান, কিন্তু হাতাহাতি বা বিশৃঙ্খলার পথে যাবেন না।”
তিনি বলেন, প্রবাসীদের বাস্তব কষ্ট অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন, লাগেজ সংগ্রহ, ট্রলি সংকট, কাস্টমস এবং বিমানবন্দরের বিভিন্ন সেবা নিয়ে বহু অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানের জন্য সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছে।
“সমস্যা আছে বলেই আইন ভাঙার অধিকার তৈরি হয় না” অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, “আপনি হয়তো ক্লান্ত, দীর্ঘ যাত্রা শেষে দেশে এসেছেন, লাগেজ নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বা কোনো সিদ্ধান্তকে অন্যায় মনে করছেন। আপনার ক্ষোভের কারণ থাকতে পারে। কিন্তু সমস্যার সমাধান আরেকটি সমস্যা সৃষ্টি করে করা যায় না।”
তিনি বলেন, বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রিত বা সীমাবদ্ধ থাকে। কোনো নিরাপত্তাকর্মীর সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, কাস্টমস বা সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত।
“অধিকার দাবি করা এবং আইন ভাঙা এক জিনিস নয়। প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে আমরা সোচ্চার থাকব, কিন্তু সেই দাবি অবশ্যই শৃঙ্খলা ও আইনের মধ্যে থেকেই করতে হবে।”
কাস্টমস বিধি সম্পর্কে আগে জানুন
সম্প্রতি বিমানবন্দরে বিদেশি সিগারেট, ভ্যাপ, অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ এবং যাত্রী আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ১০ সেপ্টেম্বর সাত যাত্রীর কাছ থেকে ৩৮.৫ লিটার বিদেশি মদ জব্দের তথ্য জানায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। একই মাসে বিদেশি সিগারেট, ভ্যাপ এবং মোবাইল ডিসপ্লে জব্দের ঘটনাও প্রকাশিত হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,
“বিদেশে কোনো জিনিস বৈধ বা সস্তা হলেই সেটি সীমাহীনভাবে বাংলাদেশে আনা যাবে, এমন নয়। বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বাংলাদেশের কাস্টমস আইন ও ব্যাগেজ বিধিই প্রযোজ্য হবে।”
তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন,
“কোন পণ্য কতটুকু আনা যাবে, কোথায় শুল্ক দিতে হবে এবং কী ঘোষণা দিতে হবে, তা ভ্রমণের আগেই জেনে নিন। কয়েকটি জিনিস বা কয়েক হাজার টাকার জন্য নিজের সম্মান, সময়, মামলা কিংবা ভ্রমণের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।”
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,
কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আমি এর মাধ্যমে অন্যায় মেনে নিতে বলছি না। আমি বলছি, যে পরিবেশে আছেন সেখানে আইন ও নিয়ম বুঝে বুদ্ধিমানের মতো নিজের অধিকার রক্ষা করুন।”
কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা নিরাপত্তাকর্মী অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধেও আইনসম্মত অভিযোগ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
“আইন শুধু যাত্রীর জন্য নয়, কর্মকর্তার জন্যও। প্রবাসীকে যেমন নিয়ম মানতে হবে, তেমনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকেও সম্মানজনক ও আইনসম্মত আচরণ করতে হবে।”
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ট্রলি সংকটকে চিহ্নিত করে তার নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ১,০০০টি লাগেজ ট্রলি প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,
“আমরা যুক্তরাজ্য, ইউরোপ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের পক্ষ থেকে এই সমস্যার বাস্তব সমাধানে অংশ নিতে চাই। শুধু অভিযোগ নয়, যেখানে সম্ভব সেখানে সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাই।”
তার ভাষায়, বিমানবন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত ট্রলি, পরিষ্কার নির্দেশনা, সুশৃঙ্খল ইমিগ্রেশন ও লাগেজ সেবা থাকলে যাত্রী এবং নিরাপত্তাকর্মী উভয়ের ওপর চাপ কমবে।
উভয় পক্ষের সংযম প্রয়োজন
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো ঘটনার ভিডিওর একটি অংশ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো ঘটনার দায় নির্ধারণ করা সবসময় নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক হাতাহাতির ঘটনায়ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলেছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট দেখা যায়নি এবং তারা সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে।

তাই সংগঠনটি আহ্বান জানায়, যাত্রী বা নিরাপত্তাকর্মী কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সিসিটিভি, সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন,
“যাত্রীকে অপমান করা যাবে না, নিরাপত্তাকর্মীকেও আক্রমণ করা যাবে না। দুই পক্ষেরই দায়িত্ব আছে। সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া সহজ হয়।”
প্রবাসীদের জন্য পাঁচটি অনুরোধ
অ্যাডভোকেট ঈসা প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানান:
বিমানবন্দরের নির্দেশনা ও Restricted Area-এর নিয়ম মেনে চলুন।
কাস্টমস ও ব্যাগেজ বিধি আগে থেকে জেনে নিন।
উত্তেজিত পরিস্থিতিতে হাতাহাতি বা ধাক্কাধাক্কিতে জড়াবেন না।
অন্যায় হলে নাম, সময়, স্থান ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করুন।
প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকুন, কিন্তু আইন ও শৃঙ্খলার বাইরে যাবেন না।
সবশেষে তিনি বলেন,
“রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অর্থের মূল্য যেমন আছে, তাদের সম্মান ও নিরাপত্তারও মূল্য আছে। আমরা সেই সম্মানের জন্য কাজ করব। একই সঙ্গে আমি প্রত্যেক প্রবাসীকে বলব, দেশের আইন মেনে চলুন এবং নিজের আচরণের মাধ্যমে প্রবাসী সমাজের মর্যাদা আরও উঁচু করুন।”
“অন্যায় হলে প্রতিবাদ করুন, কিন্তু আইন হাতে নেবেন না। সমস্যা হলে অভিযোগ করুন, কিন্তু সংঘাতে যাবেন না। আমরা প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ করছি এবং কাজ করে যাব।”
নিবেদনে